শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

করোনা থেকে বাঁচতে মহাকাশচারীর পোশাকে দম্পতি, আপনিও চাইলে বানিয়ে নিতে পারেন

ব্রাজিল:

করোনার ওষুধ বা টিকা যত দিন না বেরচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। এটাই এখন বাঁচার একমাত্র পথ। কিন্তু তত দিন পর্যন্ত তো আর গোটা পৃথিবীর মানুষ নিজেদের সম্পূর্ণ গৃহবন্দি করে রাখতে পারবেন না। তাই কিছু কিছু দেশে সৈকত, রেস্তরাঁ, হোটেল  আস্তে সবই খুলছে। তেমনটা দেখা যাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলেও। তবে অনেক মানুষ নিজেদের করোনা থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব মেনেই রাস্তায় বেরিয়েছেন। আর তার জন্য নানান পন্থা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে তাঁদের।

 

সৈকত, হোটেল, রেস্তরাঁ খুললেও মানুষকে যে আগের থেকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এটাই সরকারী ভাবে নির্দেশ। এই পরামর্শ মেনেই মনে হয় এক দম্পতি ব্রাজিলের সমুদ্র সৈকতের দিকে যাচ্ছেন, পরে নিয়েছেন নিজেদের তৈরি 'স্পেস স্যুট'। এই স্পেস স্যুট পরা অবস্থায় তাঁদের দেখতে ঠিক মহাকাশচারীদের মতো লাগছে। রিও ডি জেনেরিওর সৈকতের কাছে তাঁদের এমন পোশাকে দেখা গেল।

 

 

ড্যানিয়েল রেসেন্ডে নামে এক ইনস্টগ্রাম ইউজারের হ্যান্ডলে  ছবিটি পোস্ট হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই দম্পতি মহাকাশচারীদের মতো পোশাকে হেঁটে আসছেন। যদিও তাঁদের হাত খালি, গ্লাভস নেই, তবে মাথায় মহাকাশচারীদের মতোই দেখতে হেলমেটের মতো আচ্ছাদন রয়েছে।

 

এই দম্পতির নাম, পরিচয়ও জানা গিয়েছে। এঁরা হলেন পেশায় অ্যাকাউনট্যান্ট টেরসিও গালদিনো এবং তাঁর স্ত্রী অ্যালিসিয়া লিমা। তাঁরা নিজেরাই নাকি এই পোশাক বানিয়ে নিয়েছেন। তাদের নিজেদের পরিকল্পনা মাফিক তৈরি এই পোশাক প্রশংসার যোগ্য। তাঁদের এই উদ্ভাবনী ক্ষমতার বেশ প্রশংসা করেছেন। আর তাঁদের এমন পোশাকে দেখে আশপাশের লোকজনকেও তাঁদের ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবিই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।



শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০

সৎছেলেকে বিয়ে করলেন রাশিয়ার এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার💕💕💕

রাশিয়ার এমন একটি সম্পর্ক সামনে এল যা শুনলে আপনি চমকেও যেতে পারেন। রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই-এ বসবাস করেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মারিনা বালমাশেভা। তিনি সম্প্রতি তাঁর সৎছেলেকে বিয়ে করলেন। ফলে এতদিন যিনি তাঁর কার্যত সন্তান ছিলেন এখন তিনিই তাঁর স্বামী। এমনকি নতুন এই সম্পর্কে তাঁরা একটি সন্তানেরও জন্ম দিতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে।

 

২০০৭ সালে অ্যালেক্সি নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় মারিনার। অ্যালেক্সির এর আগে একটি বিয়ে ছিল। সেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মারিনা তাঁর জীবনে আসেন। মারিনার সঙ্গে যখন বিয়ে হয় তখন অ্যালেক্সির দু’টি ছেলে ছিল, যার মধ্যে এক জন সাত বছরের ভ্লাদিমির ‘ভয়া’ শেভিরিন  অ্যালেক্সি ও মারিনা এক দশকের বেশি সময় ধরে সংসার করেন। এমনকি তাঁরা চারটি সন্তান দত্তকও নেন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি মারিনা নিজের গর্ভে সন্তান চাইছিলেন। কিন্তু কোনও কারণে তা সম্ভব হয়নি। তা নিয়েই নাকি সম্পর্কে ফাটল ধরে। শেষ পর্যন্ত এক দশকের বেশি সেই দাম্পত্য ভেঙে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন মারিনা এবং অ্যালেক্সি।

 

অ্যালেক্সির সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সৎছেলে ভ্লাদিমিরের সঙ্গে মারিনার নতুন এক সম্পর্ক তৈরি হয়। সেখান থেকে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্তও নেন। এখন জানা গিয়েছে যে মারিনার গর্ভে ভ্লাদিমিরের সন্তানও এসেছে। তাঁরা নাকি এই বছর গোড়ার দিকেই বিয়ে করবেন ঠিক করেছিলেন। কিন্তু কোরনার অতিমারির জেরে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে তাঁর রেজিস্ট্রি অফিসে সই সাবুদ করে আইনত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

 

অ্যালেক্সির বয়স এখন ৪৫ বছর আর মারিনার ৩৫। ভ্লাদিমির যাকে মারিনা প্রায় সাত বছর বয়স থেকে দেখাশোনা করছেন সে এখন ২০ বছরে যুবক। অ্যালেক্সি বাকি মোট পাঁচ সন্তানকে নিজের কাছেই রাখার অনুমতি পেয়েছেন। মারিনা ওই সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পেলেও তাদের নিয়ে বাইরে যেতে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ছবি ভিডিয়ো শেয়ার করতে পারবেন না, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের চাইল্ড সার্ভিস।

 

নিজের বিচ্ছেদ এবং নতুন করে এই বিয়ের খবর মারিনাই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। তারপর থেকেই খবরটি চার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি খবর ভাইরাল হতে সময় নেয়নি, বেশ কিছু ছবি ভিডিয়ো শেয়ার হয়ে চলেছে সেখানে।



রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

বাংলাদেশের সবথেকে সুন্দরী অভিনেত্রী রা


জয়া আহসান  জন্ম: 1 জুলাই 1972 একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী এবং প্রযোজক।

30 Best Photos of Bangladeshi Actress Bidya Sinha Mim

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী ও মডেল।২০০৮ সালে তিনি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড প্রযোজিত আমার আচল জলে হাজির হয়েছিলেন।
File:Pori Moni (cropped).jpg - Wikimedia Commons

পেশাজীবী পরি মনি নামে পরিচিত শামসুন্নাহার স্মৃতি একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী এবং মডেল।

Purnima (Actress) Height, Weight, Age, Boyfriend, Husband ...

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।ওরা আমাকে ভাল হোতে দিলো না ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

Nusrat Imroz Tisha (@actress_tisha) | Twitter | Actresses, Beauty ...

তিশা নামে একচেটিয়া নামেই পরিচিত নুসরাত ইমরোজ তিশা একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী এবং মডেল।তিনি টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ।

Shokh says 'Goodbye'!

আনিকা কবির শোখ বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী, নর্তকী এবং মডেল । শোখ 2002 সালে শাকখোরে তার মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন।
Tanjin Tisha Biography, Wiki, Height, Age, Boyfriend & More

তানজিন তিশা একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী, মডেল ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা।তিনি টেলিভিশন সিরিয়াল ও নাটকে অভিনয় করেছেন।

Moushumi to run for the position of President of Bangladesh ...

আরিফা পারভীন জামান, তাঁর মঞ্চ নাম মৌসুমী দ্বারা সুপরিচিত, তিনি একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও পরিচালক।তিনি মেঘলা আকাশ, দেবদাস এবং তারকাতায় তাঁর চরিত্রে তিনবার সেরা অভিনেত্রীর জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করেছিলেন।
upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/...

মেহাজাবিয়ান চৌধুরী একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী।চৌধুরী ২০০৯ সালে বাংলাদেশী বিউটি প্রতিযোগী লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার জয়ের পরে তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন
Rafiath Rashid Mithila Bio, Early Life, Career, Age, Height ...
রাফিথ রশিদ মিথিলা একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী, গায়ক, মডেল ও উন্নয়ন কর্মী।তিনি বর্তমানে ব্র্যাক আন্তর্জাতিকের প্রাথমিক শৈশব বিকাশ কর্মসূচির প্রধান
 

শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০

জয়া এহসান এর অবাক করা সুন্দর ছবি

Jaya Ahsan - Wikipedia

১৯৭২ সালের ১ লা জুলাই বাংলাদেশে জন্মগ্রহন করেন। 

Bangla Beauty Jaya Ahsan | Age is just a number to her ! – India Daily

তার অভিনয়ের জন্য তিনি চারবার সেরা অভিনেত্রীর জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করেছিলেন 

Jaya Ahsan Age, Height, Boyfriend, Wiki, Latest Movie, Instagram ...

তার একটি ছোট বোন এবং ভাই রয়েছে

Jaya Ahsan plays a snob businesswoman in Film “Crisscross”

তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্র সংগীতে ডিপ্লোমা কোর্স এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণ নেন

Jaya Ahsan on Twitter: "💖💖… "

1997 সালে কোসাকোলা একটি বিজ্ঞাপনে প্রথম আহসান টেলিভিশনে হাজির হন
✅[105+] Jaya Ahsan HD Wallpapers (Desktop Background / Android ...

আহসান 14 মে 1998 সালে একটি টেলিভিশন মডেল ফয়সালকে বিয়ে করেছিলেন।

Actress Joya Ahsan Hot Photo | Veethi
Add caption

আহসান হলেন একজন কারিগর এবং একটি দৃশ্য-শিল্পী, যা তিনি এনেচি শুর্জার হাশির মতো আর্ট-হাউজ সিনেমা প্রযোজনায় প্রদর্শিত করেছিলেন।

Joya to play as 'Banolota Sen' | The Asian Age Online, Bangladesh

২০০৯ সালে তারপোরো আঙ্গুরলতা নন্দো কে ভালোবাসা টেলিভিশন নাটকে আহসান একজন যৌনকর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

Posts tagged as #jayaahsan | Wopita

আহসান বলেছিলেন, "আলতা আমার অন্যতম প্রিয় চরিত্র। এই চরিত্রে অভিনয় করা আমার পছন্দ হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

অসমাপ্ত ভালোবাসা

ক্ষুধায় পেট এর ভিতর ইঁদুর দৌড়াছে মনে হয়। প্রচুর খিদে পেয়েছে। সম্পাকে প্রাইভেট পড়াতে ওর বাড়িতে এসেছি। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত্রি আট টা পর্যন্ত ওকে বাড়িতে পড়ায়।সেই অষ্টম শ্রেণী থেকে এই মেয়েটাকে পড়াচ্ছি।
এখন ও ঢাকা কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ে। সম্পার বাবা পুলিশের একজন বড় অফিসার এবং মা হাউস ওয়াইফ। ওদের আর্থিক প্রতিপত্তি তো আছেই সেই সঙ্গে সম্মানও।সম্পা বাড়ির একমাত্র সন্তান।খুব আদরের সঙ্গে বড় হয়েছে।
আর আমি অতিসাধারণ একজন গরীব মানুষ। অভাবের মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছি। মাস্টার্স ডিগ্রী তে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি।আমার ইনকামের রাস্তা হলো বিভিন্ন জাইগায় এবং বাড়িতে টিউশনি করা।
 টিউশন থেকে যে টাকা ইনকাম হয় সেই টাকায় আমার নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে হয় আর গ্রামে আমার বৃদ্ধ পিতা মাতা আছেন উনাদেরকে প্রতিমাসে কিছু টাকা পাঠাতে হয় যাতে করে উনারা কোনরকম চালিয়ে নেন । গ্রামে মা-বাবা আর একটি ছোট বোন আছে।
আমার বাবা একজন গরীব দিনমজুর। আগে বাবা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন বৃদ্ধ হওয়ায় কোন কাজ ঠিক মতো করতে পারে না। আর আমিও উনাকে কোন কাজ করতে দেই না।
আমার পাঠানো টাকায় তারা কোন রকম চালিয়ে নেন।
 যা বলছিলাম আগে।
 সেই বিকেল ৫ টা থেকে পড়াচ্ছি, এখন সন্ধ্যা হয়ে গেল। ক্ষুধায় কাতর হয়ে যাচ্ছি । দুপুরে সেইরকম কিছু খাওয়া হইনি। অবশ্য আমি প্রায়ই দুপুরে সেই রকম কিছু খাই না। এর ফলে আমার হাতে প্রতিদিন কিছু টাকা বেঁচে যায়, কারন না হলে আমি বাবা - মার কাছে টাকা পাঠাতে অসুবিধে হয়।

এইভাবে বছর চলে যাচ্ছে। খেলে তো শেষ হয়ে যাবে, এটা আমার চিন্তাভাবনা। সম্পাকে ৫ বছর ধরে পড়াচ্ছি। পড়ানোর সময় প্রথম দিন থেকেই দেখতাম, আমাকে কিছু টিফিন দেওয়া হতো।

এতে আমার অনেক লাভ হয়েছে। দুপুরে সেই রকম কিছু না খেলেও এই টিফিন দিয়ে আমি আমার খিদে মিটে যেত। আজ একটু ব্যতিক্রম লাগলো আমার কাছে।
একঘন্টা পড়ানো হয়ে গেছে, এখনও কাজের মেয়েটা টিফিন নিয়ে এলো না তো। এই রকম সাধারণত হইনা ।
 টিফিন হয়তো আসবে না,এই কথা মনে হতেই ক্ষুধাটা আরও বেড়ে গেল। একটু অন্যমনস্ক ছিলাম তাই সম্পা ডাক দিলো, --ভাইয়া। --হা বলো। --আপনি কিছু ভাবছিলেন..? --নাতো। --আচ্ছা ঠিক আছে।
আমি একটু ভিতরের ঘর থেকে আসছি। সম্পা ভিতরের রুমে কেন গেল কে জানে।এই মেয়েটাকে পড়িয়ে অনেক রিলক্স পেয়েছি। খুব মেধাবী ছাত্রী। খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না কোনো কিছু বোঝানোর জন্য। অল্প বোঝালেই সব কিছু বুঝতে পারে। সম্পা খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো। আমি একটু লজ্জিত বোধ করলাম।
সম্পা কিছু বুঝে ফেললো নাকি? সম্পা বলল, --আজকে কাজের মেয়েটা আজকে আসে নি। তাই টিফিন দিতে একটু দেরি হয়ে গেল। --আরে সমস্যা নাই। সব ঠিক আছে। কষ্ট করে আনতে গেলে কেন? সম্পা কিছু বলল না।একটা বাঁকানো হাসি দিল।আমি খাবার হাতে নিলাম।
 পেটে ক্ষুধা নিয়ে ওদিকে তাকানোর সময় কোথায়। আমি খাবারের প্লেটের দিকে লক্ষ্য করলাম। চা, পাঁচটি বিস্কুট, দু’টুকরো কেক দিয়ে প্লেট টি সাজানো। আমার জন্য এই টিফিন টিই বেশি ছিল। খাবার শেষ করে দেখি সম্পা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
 আমি একটু অস্বস্তিবোধ করলাম। স্বাভাবিকের চেয়ে হয়তো একটু তাড়াতাড়ি ভাবে খাবার গুলো শেষ করে ফেলেছি। সম্পা বলল, --ভাইয়া আজও আপনি নীল শার্টটি পড়ে এসেছেন..? -সবুজ জামাটা ধুয়ে দিইয়েছি। --আপনার আর শার্ট নাই? শুধু নীল আর সবুজ জামা। (সত্যি কথা বলতে আমার আসলে আর বেশি জামা নেই। এই দুটো শার্ট। দুদিন আগে দেখলাম লাল জামাটা ইঁদুর কেটে ফেলেছে।)
 এই কথা অবশ্য সম্পকে বলা যাবে না।
তাই চুপচাপ হয়ে গেলাম। --আমি আপনাকে দুটো জামা উপহার দিতে পারি। --আচ্ছা দিও।এখন যেটা করছো সেই পড়ায় মন দাও।
সম্পকে পড়িয়ে বাসায় ফিরলাম। আজ ১৫ ই আগস্ট। সারাদিন ইউনিভার্সিটিতে ভালো সময় কাটালাম। বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম। ভালই মজা হলো। সন্ধ্যায় সম্পকে পড়াতে গেলাম ওদের বাড়িতে।
 সম্পার সাথে দেখা হলো না। ওর মায়ের সাথে কথা হলো এবং মায়ের কাছ থেকেই জানতে পারলাম সম্পার আংটি বদল হয়ে গেছে। এক সেনাবাহিনীর স্টাফ এর সাথে। তাই আজ আর পড়তে বসতে চাইনি। আমি ও ছুটি পেয়ে গেলাম।
বাসার দিকে ফিরছি।
আজ আর ক্ষুধা লাগছে না। ইঁদুর আর পেটের মধ্যে ছুটাছুটি করছে না। কেমন যেন আজকে মনটা উদাস হয়ে গেল। কোনো কিছুই সেই রকম ভালো লাগলো না। এই প্রথম সম্পার জন্য মনটা উদাস হয়ে গেল।
আজ বুঝলাম সম্পাকে আমি মনে মনে পছন্দ করতাম। ব্যাথিত মনে বাসায় ফিরলাম। বাসা বলতে ভাড়া বাসা।এক রুমের বাসা।আমি আর সাহিল এক সঙ্গে থাকি।
সে-ও ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট। সাহিল বলল,আমার নামে একটা পার্সেল এসেছে। দেখলাম রঙ্গীন কাগজে মোড়ানো একটি বাক্স।
আমাকে আবার কে পাঠালো।অতি আগ্রহ বেড়ে গেল। বক্সটি খুলতেই দুটি শার্ট বেরিয়ে পড়ল।একটি লাল আর একটি সাদা,সাথে একটি চিঠি ও রাখা আছে দেখলাম।

জামা গুলো দেখে আমি বুঝতে পারলাম কে পাঠিয়েছে। আমি চিঠিটি পড়া শুরু করলাম।
 প্রিয় তরুণ, ভাই বলতে পারবো না। অন্য মানুষের সামনে ভাই বলতে হয় কারণ সেটার প্রয়োজন আছে। কিন্তু চিঠিতে কোনো প্রয়োজন নেই। আর আমি কখনোই তোমাকে ভাই হিসেবে মনে করি নি। তুমি করেই বলছি তোমাকে, ঠিক আছে? তরুণ তোমার মনে আছে, একদিন বাবার সাথে আমার ঝগড়া হয়েছিল, সেদিন আমি রাগ করে অনেক কেঁদেছিলাম।
তখন আমার বোঝার মত বয়স হইনি। মাত্র এইটে পড়তাম। এই বয়সে অবুঝ হওয়া টাই স্বাভাবিক। তুমি যখন পড়াতে এসেছিলে সেই তখন পর্যন্ত আমি কাঁদছিলাম। তুমি কিছুই বললে না।চুপচাপ করে বসে রইলে।
কিছুক্ষণ পর একটা হাসির ছড়া লিখে দিয়েছিলে।আমি সেদিন হাসির ছড়াটি পড়ে হেসে দিলাম। সেইদিন থেকেই তোমাকে ভালো লাগা শুরু হলো।তুমি খবুই সাধারণ ভাবে চলাফেরা কর। সুন্দর করে কথা বল যা আমাকে ভীষণ ভালো লাগে। আজকে তোমার ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম।
 দেখলাম তুমি তোমার কলেজের রেসটুরেন্ট এ একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছো। মেয়েটা কে? তুমি কি মেয়েটাকে পছন্দ করো। আজকে আমার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে ।
তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে। তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। অন্য কাউকে বিয়ে করার প্রশ্ন-ই আসে না।তোমাকে জানিয়ে দিলাম। তুমি যদি আমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চাও তাহলেও আমি রাজি আছি।

 ইতি সম্পা।

 চিঠিটা ভাঁজ করে কালো শার্টের পকেটে রেখে বাইরে বের হলাম। ব্যাস্ত রাস্তার পাশ দিয়ে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছি আর ভাবছি, এখন আমার কি করা উচিত। আমি গরীব দিনমজুরের অতি সাধারণ একজন ছেলে আর সম্পা সেনাবাহিনীর অফিসারের মেয়ে।
 এদিকে আমি এখনো কোনো চাকরি করি না। চাইলেই সম্পাকে নিয়ে পালিয়ে যাতে পারি কিন্তু যেখানেই যাব সম্পার বাবা সেখান থেকে খুজে বের করে আনবে। তখন দু'জনের ভবিষ্যৎ কি হবে। মোবাইলের রিংটোন টা বেজে উঠলো এবং ভাবনার ছেদ পড়লো।
 --হ্যালো। --হ্যালো।আমি ডিসিপি সঞ্জয়।
সম্পার বাবা।তুমি কি তরুণ???
 --হা আংকেল।
 --তুমি জানো তো সম্পার আজকে এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে।
 --হা জানি।
 --আজ সম্পা বদমাসি শুরু করেছে।
ও নাকি ওই ছেলে টাকে বিয়ে করবে না। ও নাকি তোমাকে ভালোবাসে। তোমাকে বিয়ে করতে চায়। আমি চুপ করে রইলাম।
 --তরুণ ??
 হ্যা আংকেল।

-তুমি এখন কি করবে ভাবছো ?
 --আপনি বলুন।আপনি যা বলবেন, তাই করবো।
 --ঠিক তো?
 --হা ।
 --তোমার রুমে তোমার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকেট পাঠিয়ে দিয়েছি।কাল সকালে এই শহর ছেড়ে যাবে।
 --ঠিক আছে।
 --তোমাকে যেন এই শহরে আর না দেখি।
 -ঠিক আছে ।
 এরপর রুমে এসে কিছু খেয়ে মাথার মধ্যে অনেক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে শুয়ে পড়লাম। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমের দেশে চলে গেছি নিজেই জানি না।
 সকালে গ্রামে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম।তখন প্যান্টের পকেটে রাখা লেনোভো মডেলের মোবাইলটা বেজে উঠলো।
মোবাইলটা বের করে দেখলাম কেউ একজন অচেনা নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছে।
 ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে,
 --হ্যালো। তরুণ?
--হা । কে বলছেন?? --আমি বলছি.......

 #

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০

Ex গার্লফ্রেন্ড 💔

Ex গার্লফ্রেন্ড 💔
 পর্ব ১... 
বাড়িতে বড় ভাই এর বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়ে দেখাশোনা চলছে। অনেক মেয়ের খবর আসছে কিন্তু কোনভাবেই বাড়ির সকলের পছন্দ হচ্ছিল না।

 অনেকদিন পর একটা মেয়ের পরিবারের খবর এল মেয়েটা নাকি খুব সুন্দর দেখতে এবং সেই সঙ্গে পড়াশোনা টাও যথেষ্ট ভালো। খবর টা শুনে বাড়ির সকলের খুব ভালো লাগলো। সবাই মিলে মেয়ের বাড়িতে যাবার জন্য একটা দিন ঠিক করলো। 

 অমনি মা আমাকে ডেকে বললেন অমুকদিন আমরা মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছি, তুমিও আমাদের সাথেই যাবে তোমার দাদাকে সঙ্গ দিতে। 

আমার খুব একটা যাবার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু মা কে না বলতে পারলাম না। মাকে আমি যাবো বলে দিলাম। 

পরিবারের সকলের সঙ্গে তাদের বাড়িতে পৌঁছলাম ।

 কিছু সময় পরে মেয়ে টা বেরিয়ে এল । বড় ভাইয়ের বউকে দেখার পর চোখ কপালে উঠে গেলো। এটা কে?? 

 এটা সেই নাসরিন না। 

আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল ৫ বছর আগে।
 কিন্তু এ এখানে এল কিভাবে বা নাসরিনের সাথে আমার ভাইয়ের বিয়ের যোগাযোগ কিভাবে গড়ে উঠলো?? ?? 
এইসব হাজারো প্রশ্ন আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। মেয়েটা আমাকে দেখে রীতিমতো চমকে গেছে। মেয়েটাও আমাকে দেখে অবাক কিন্তু কিছু বলতে পারছে না আর আমিও চুপচাপ থাকলাম।

 মেয়েটা ঘামতে শুরু করছে সাথে আমিও ঘামতে শুরু করলাম। মনের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা অনুভব করলাম। দুজন দুজনকে এখনো মনে মনে ভালোবাসি শুধু সম্পর্ক টা এখন আর নেই। 

বড় ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে নাসরিনের দিকে। থাকাটাই স্বাভাবিক । কারন নাসরিনকে যে দেখবে তারই পছন্দ হবে। খুবই ভদ্র চুপচাপ ও নিরব প্রকৃতির মেয়ে। 

সেই সাথে খুবই সুন্দরী দেখতে। মনভোলানো দৃষ্টি আর মায়াবী চোখে যে কেউ হারিয়ে যেতে বাধ্য । 

 যখন আমি কলেজে ভর্তি হলাম সেই যে প্রথম নাসরিনকে দেখলাম সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকেই আমি তার উপর ক্রাশ খেয়েছিলাম। কিন্তু সমস্যা ছিলো যখন আমি প্রথম বর্ষে পড়ি সে তখন আমার সিনিয়র। 

নাসরিন তখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। পুরো এক বছর আমার থেকে সিনিওর ছিল। অগত্যা আমি তার পেছনে ঘোরাঘুরি শুরু করলাম যেটা নাসরিনের মোটেও ভালো লাগতো না। 

তবে আমিও এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলাম না। প্রতিদিন কলেজে যাবা আসার সময় আমি রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতাম । 

কিন্তু সে ফিরেও আমার দিকে তাকাতো না। রাস্তার পাশে প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকার পরও তার সাথে কথা বলতে পারতাম না। এই ভাবে বেশ কয়েকদিন কাটলো। কলেজে যখন আমায় মেয়েটা দেখত তখন খুব রাগী রাগী ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকাতো । 

তখন আমি বুঝতে পারতাম না কেন মেয়েটা রেগে রেগে তাকাতো।আমি আমার মতো প্রতিদিন তার জন্য অপেক্ষা করতাম রাস্তার পাশে। 

কলেজেও এসে নজরে রাখতাম কখন কি করে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে। বুঝতে পারছিলাম এইভাবে রাস্তায় অপেক্ষা করলে তাহলে মেয়েটার সাথে আমার আর কথা বলা হবে না। 

তাই একদিন মনে মনে ভাবলাম মেয়েটাকে একবার বলেই দেখি কি হয়। সেদিন খুব সাহস নিয়ে সকাল সকাল বের হয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলাম। যেহেতু সে আমার সিনিয়র তাই কলেজে কথা বলার কোনো সুযোগ ছিলোনা সিনিয়র দাদারা তো আছেই। 

 মেয়েটা ধীরে ধীরে রাস্তা দিয়ে এগোতে লাগল। আমার হার্ট এর স্পীড বাড়তে লাগলো। মেয়েটা কাছা কাছি আসতেই অমনি বলে দিলাম - দিদি i love you... 

 বিশ্বাস করুন মেয়েটা এমন ভাবে তাকালো সেদিন যে আমি প্রথমবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেছিলাম। আর কোনো কিছু শোনার অপেক্ষা না করেই দৌড়তে লাগলাম।

 কিন্তু বেশিক্ষন দৌড়াতে পারিনি। আনমনে দৌড়ানোর সময় একটা মোটর সাইকেল এসে ধাক্কা মেরে দিয়ে যায় আমাকে। 

রাস্তার মাঝখানে পড়ে গেছলাম। আর তখন যন্ত্রনায় ছটপট করছি। অনেকটা কেটে গেছে। মাথাও ফেটে গেছে। উঠতে পারতেছিনা। 

চোখ বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত শুধু নাসরিনকেই দেখেছিলাম আর চোখ খোলার পরও তাকেই দেখলাম। মেয়েটা হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। হাসপাতালের বেডে আমার মাথার পাশে বসে বসে কাঁদছে। 

মেয়েটার মায়াবি মুখটা এখনো আমার চোখে ভাসে।

 সেদিন কিছু বলতে পারিনি তবে বুঝে গেছিলাম মেয়েটাও আমাকে ভালোবাসে। যাওয়ার আগে নাসরিন একটা কথাই বলে গেছিলো সেদিন। এরপর থেকে সাবধানে চলবে আর দিদি বলছো কেনো?

 আমার ভীষণ রাগ হচ্ছিল তাই তো ওইভাবে তোমার দিকে তাকাইছিলাম। আর আমি তার চোখের চাহনী দেখে সোজা হাসপাতালে। 

সম্পর্ক টা ছিলো এক বছর।

তার বাবার চাকরি ট্রান্সফার আর তার পরীক্ষার পর অন্য যায়গায় চলে গেল। এই দু টো কারনেই ব্রেকআপ হয়েছিলো আমাদের সম্পর্কের। 

এই রকমই কিছু ভাবছেন নিশ্চয় ??

 না আসলে এসবের কিছুই না। সে আরেকটা ছেলের সাথে মেলামেশা করতো যেটা আমার মোটেও ভালো লাগতো না। অনেকবার তাকে আমি না করার পরও সে শুনেনি। 

একদিন নাসরিনকে বলেই দিয়েছিলাম কি এমন সম্পর্ক তোমাদের মধ্যে যার জন্য সেদিন একটা থাপ্পড় মেরে ব্রেকআপ করে দিয়েছিলে। 

অনেক কষ্ট পাইছিলাম সেদিন। 

তার কিছুদিন পর দেখলাম সত্যিই ছেলেটার সাথে রিলেশন আছে তার। আর কি আমি আশা ছেড়ে দিলাম। তারপর কলেজের পড়া শেষ করে ছেড়ে দিলাম এই শহর ।

 চলে আসলাম নিজের শহরে। তারপর একটা কাজে ঢুকে গেলাম । তারপর কেটে গেছে ৫ বছর। নাসরীনের সাথে আর কোনোদিন দেখাও হয়নি এবং কথাও হয়নি। 


 তবে নাসরিনের ফেসবুক আইডিটা আমি জানতাম। প্রতিদিন তার প্রোফাইল টা চেক করতাম। আর দেখতাম মেয়েটা ছবি আপলোড দিছে সেই ছেলেটাকে সাথে নিয়ে।

 চলুন এবার বর্তমান পরিস্থিতি তে ফিরি। কারন আগের অতীত খুবই বোরিং বাস্তবটা উত্তেজনায় ভরপুর। এইসব ভাবতে ভাবতে অনেক টা সময় চলে গেল । হটাৎ করে আব্বু আমায় ডাক দিলেন। 

আমার ঘোর কাটলো, আব্বু জিজ্ঞাসা করলো- রাহান কেমন লেগেছে তোর?? 

আমি বললাম আব্বু বিয়েটা ভাইয়ার, তাকে জিজ্ঞেস করলেই পারো। 

ভাইয়া আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকালো।

আমি মনে মনে হাসতে লাগলাম। আমার আর নাসরিনের সম্পর্কটা ক্রস কানেকশন এর মত।

প্রথমে বড় দিদি তারপর গার্লফ্রেন্ড। তারপর এক্স গার্লফ্রেন্ড আর আজকে ভাবি। 

হা হা হা !!!! 

দারুন মনে মনে মজা হচ্ছে। 
কেনো ভাবি বললাম জানেন? কারন মেয়েটাকে সবারই পছন্দ হয়েছে। 

হঠাৎআমার চোখ গিয়ে পড়ল নাসরিনের ঠিক পেছনে তার ছোট বোন সানিয়ার দিকে। 

সেই ছোট মেয়েটা অনেক বড় হয়ে গেছে আর নাসরিনের মতোই সুন্দরি। মেয়েটা এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমিও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছি দুই ভাই এক বাড়িতেই বিয়ে করলে কেমন হবে। আমার চোখ আবার নাসরিনের উপর গিয়ে পড়লো।

 নাসরিনের দিকে তাকিয়ে আরেকটা জিনিস ভাবিয়ে তুললো - ছেলেটার কি হলো যার সাথে নাসরিনের এত দিনের সম্পর্ক ? তাহলে কি ব্রেকআপ হয়ে গেছে । আমার অফিসের কাজের চাপে লাস্ট ৩ মাস নাসরিনের প্রোফাইল চেক ই করা হয়নি। 
সে যাই হোক। আব্বু বড় ভাইকে বললো, - তোরা যা কথা বল আলাদা রুমে। বড় ভাই আবার আমাকে নিয়ে গেলো।
বলেনতো কেমন লাগে, আমি রুমের সামনে দাড়িয়ে আছি হঠাৎ সানিয়া আসলো,

সানিয়া :- ভাইয়া একা দাড়িয়ে যে?? 
আমি : কি করবো বলো তাদের সাথে তো আর যেতে পারবোনা। 
সানিয়া : চলুন আপনাকে পুরো বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখাই। 
 
আমি : আচ্ছা চলো। পেছন পেছন হাটতে লাগলাম। মেয়েটা একটা একটা করে সবকিছু দেখাতে লাগলো। সবশেষে আমরা গেলাম ছাদে। 
আমি : আচ্ছা তোমার নামটা কি? 
সানিয়া : সানিয়া 
আমি : বাঃ বেশ ভালো নামতো। 
সানিয়া : জ্বি ভাইয়া আপনার নামটা কি?? 
আমি : সাকিল। 
সানিয়া : কি বললেন? 
আমি: সাকিল । 
সানিয়া : আপনার নামটা দারুন কিউট আছে। 
আমি : তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? 
সানিয়া: ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার চলছে আমার। 
আমি : আচ্ছা তোমার নাম্বারটা আমাকে দিতে পারবে। 
সানিয়া : কেনো?? আমি : এমনি দাও। 
সানিয়া : সরি ভাইয়া আমার নাম্বার দিতে পারবোনা। 

আমি : আচ্ছা কোন সমস্যা নাই। 
সানিয়া : আপনি আপনার ফেসবুক আইডি পেতে পারেন। এতো মেঘ না চাইতেই জল, মনে মনে ভাবতে নিচে নামতিছি। নিচে নামতে নামতেই ধাক্বা খেলাম নাসরিনের সাথে। 

আমি : সরি আমি আসলে দেখিনাই আপনাকে। 

নাসরিন : ঠিক আছে । তার হাতের আলতো স্পর্শ আমার মনটাকে আবারো আঘাত করলো। শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতটা আবারো জেগে উঠলো। চোখ জলে ভিজে উঠার আগেই সবার মধ্যে চলে আসলাম। 

চলবে?? 
বাকিটা পরের পর্বে থাকছে.....
This India-Pakistan love story went horribly wrong

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

ভালোবাসার কঠিন পরিস্থিতি

ভালোবাসার গল্প...(কাঁদবিনা প্লিজ).......... 

 সুরজ প্রথম যে দিন তানিয়া কে স্কুলের শিউলি গাছের তলায় বন্ধুদের এবং বান্ধবীদের সাথে গল্প করতে দেখেছিল সেই প্রথম দেখাতেই ওর তানিয়াকে ভীষণ ভালো লাগলো। কিন্তু ও কিছুতেই তানিয়াকে কিছু বলতে পারতো না। কারন সুরজ দেখতে খুব একটা হ্যান্ডসাম ছিল না ।

 আর সুরজের গায়ের রঙ কিছুটা কালচে।

 সেইদিক থেকে তানিয়া ছিল খুব সুন্দরী। যে কোন ছেলে ওকে খুব সহজেই প্রপোজ করতে পারতো। সুরজ ভাবত তানিয়াকে বলতে গিয়ে যদি তানিয়া ডাইরেক্ট না বলে দেই সেই নিয়ে ও খুব চাপে থাকত। ও কিছুটা ইমোশনাল প্রকৃতির ছেলে ছিলো।

সব কথা খুব সহজেই ও বলতে পারতো না। এইভাবে বেশ কিছুদিন কাটলো। বন্ধুদের মাঝে মাঝে তানিয়াকে নিয়ে বলতো। 

একদিন তানিয়ার কাছে এই খবরটি গেলো যে সুরজ বলে যে ক্লাসমেট টি আছে সে ওকে পছন্দ করে কিন্তু বলতে পারছে না । একদিন তানিয়া সুরজকে ডাকলো এবং সেই থেকে ওদের বন্ধুত্বটা শুরু হল।

কখন যে ওদের বন্ধুত্ব ভালোবাসায় পরিবর্তন হয়ে গেছে বুঝতেই পারলো না। দুজনেই দুজনকে ভীষণভাবে চাইতে লাগল। এইভাবে চলতে চলতে ওরা স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে কলেজ এ চলে এলো। 

কলেজে পড়া চলাকালীন ওরা আরও অনেক বেশি সময় নিজেদের দিতে পারলো এবং একে অপরকে আরো ভালো করে বুঝতে পারল। কলেজ এর পড়া শেষ করে সুরজ একটা কাজে ঢুকে গেল এবং তানিয়া আরো উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়তে গেল। তানিয়া কিছুতেই সুরজ কে ছাড়া থাকতে পারলো না । 

তানিয়ার পড়াশোনা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দুজনের পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল। কয়েকবছর ওরা খুব ভালো ভাবেই সুখে সংসার যাপন করতে লাগলো। 

তানিয়া মাঝে মাঝেই ওর স্কুলের বন্ধুদের সাথে গল্পকরতে লাগলো। 

এটা সুরজের খুব একটা ভালো লাগতো না। সুরজ : তোমাকে অনেকবার না বলেছি, অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলতে না..! 

তানিয়া : ওরা আমার বন্ধু ৬-৭ বছর আমরা এক সাথে পড়েছি স্কুলে এবং কলেজে, কথা না বললে কি করে হয় ..?? 

সুরজ : তুমি যখন আমায় নিষেধ করলে তারপর আমি তো কোন মেয়ের সাথে কথা বলিনা...!! তুমি তোমার আরও অনেক মেয়ে বন্ধু আছে । মেয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলো আমার কোনো সমস্যা নেই....। কিন্তু তোমার ছেলে বন্ধুদের সাথে কোন কথা বলবে না, এটা আমার ভালো লাগে না , এটা আমি সহ্য করতে পারি না।

 তানিয়া : দেখো সুরজ তোমার পছন্দ অপছন্দে আমার কিছু যায় আসে না....। তুমি ছাড়াও আমার পার্সোনাল লাইফ আছে যা আমি অন্যদের বাদ দিয়ে এড়িয়ে চলতে পারবো না। 

 সুরজ: কি....!!!...???? আমি ছাড়া তোমার অন্য পার্সোনাল লাইফ..!!! এটা থাকা তো ঠিক নয় !!! 

আমি তোমার স্বামী, সেই অধিকার হিসেবে আমার কি তোমাকে কিছু বলার, নিষেধ করার অধিকার নেই....??? 

 তানিয়া : বেশী অধিকার ফেলাতে এসো না !! আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। 

 সুরজ : সরি, তোমাকে নিষেধ করা আমার ভুল হইছে, ক্ষমা চাই, ক্ষমা করে দিও আমায়। আমি এরপর থেকে তোমাকে আর ডিস্টার্ব করবো না । তানিয়ার কথা শুনে সুরজ খুব কষ্ট পেলো। সুরজ কল্পনাও করেনি এমন কথা বলবে বা বলতে পারে তানিয়া। নিজের অজান্তেই কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে দু'চোয়াল শিক্ত হলো..। 

তানিয়াকে সুরজ অনেক বেশী ভালবাসে। সেইজন্য তানিয়ার কথা মেনে নিতে পারলো না। 

তানিয়া : কি ব্যপার না ঘুমিয়ে অমন করে কি দেখছো......??? ঘুমাবে না ??? 

সুরজ : আচ্ছা তানিয়া..!! ধরে নাও আমি নেই... আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে তুমি....??? 

তানিয়া : কেন কোথায় যাবে তুমি.....?? 

সুরজ : এমনি ধরে নাও মানুষ এই আছে এই নাই, কখন কি হয় বলা তো যায় না...!! আমায় ছাড়া একা থাকতে পারবে.....???  
তানিয়া : এসব কি বলছো.....?? ঘুমাও তো...... ঘুমিয়ে পড়। অনেক রাত্রি হল । 

সুরজ : আমার কথা কি মনে পড়বে....??? 

তানিয়া : না একটুও মনে পড়বে না। 

সুরজ : আমি তোমার যোগ্য নই তাই না...?? 

তানিয়া : আমার এসব কথা একটুও ভালো লাগছে না...... ঘুমাও তো, আর একটা কথাও বলবে না। তানিয়া ওপাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়লো। সকাল বেলা চোখ খুলতেই তানিয়া দেখতে পেলো সুরজ ওর দিকে চেয়ে আছে, সুরজ এর চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে, পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে সুরজ রাতে ঘুমায় নি। 

তানিয়া : কি ব্যপার সারারাত ঘুমাও নি...??? 

সুরজ: হুম, ঘুমাইছি তো... একটু আগেই উঠলাম। ঘুম টা ভেঙে গেল। 

সুরজ : তুমি তো আমার আগে উঠো না আজ কেন..???

সুরজ : না এমনিতেই...... সুরজ কখনোই তানিয়ার সাথে মিথ্যা বলেনা সেটা যে বিষয়ই হোক না কেন। কিন্তু তানিয়া স্পষ্ট বুঝতে পারলো সুরজ মিথ্যে বলছে.... সুরজ সারারাত ঘুমায়নি। তানিয়া বুঝতে পারলো না সুরজের কি হয়েছে।

 সুরজ প্রতিদিন কাজে বের হবার সময় তানিয়ার কপালে একটা চুমু খেয়ে বের হয়। আজ দুইবার চুমু খেলো, অন্য দিন হাসিখুশি যায়, আজ চুপচাপ, নিস্তব্ধ, চোখে জল ছলছল করছে। সেরকম কিছু বলল না। 
সুরজ : যাই বাবু.... (কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসলো) তানিয়া : কি হলো কিছু ফেলে গেছো.....??? 
 
সুরজ : না.... তানিয়া : তবে....... সুরজ কিছু না বলে তানিয়াকে জড়িয়ে ধরলো কপালে আবার চুমু খেলো আর বললো ভালো হয়ে থেকো বাবু। নিজেকে কনট্রোল করতে পারছে না সুরজ ...।

 আর কিছু না বলে সুরজ চলে আসলো, তানিয়ার চোখে জল.... তানিয়া ভাবছে সুরজ এর কি হলো.....??? ও তো এমন না.....!! এমন করে না । 

 সুরজ কে খুব ভাল করেই চিনে তানিয়া, অনেক বছর প্রেম করে বিয়ে হয়েছে ওদের। সুরজ তানিয়ার চেয়ে পড়াশোনা কম করছে আবার চেহারার দিক দিয়েও তানিয়া ওয়াও আর সুরজ একটু কালো। 

কিন্তু তানিয়া জানে সুরজ ওকে নিজের চেয়েও বেশী ভালবাসে। সুরজ তানিয়াকে অনেক বার বলেছে আমি কি তোমার যোগ্য...? 

 উত্তরে তানিয়া বলেছে : দেখো সুরজ....!! ভালবাসা যোগ্যতা বা চেহারা দিয়ে হয় না, তুমি আর এসব কথা বলবে না। তানিয়া সুরজ এর অনেক কথাই মানতে চাইতো না যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করতো।

 সুরজ কিছু বলতো না, কোন বিষয় জোর করতো না, হার মেনে নিতো...। 

সুরজ চলে যাবার পর তানিয়া বিছানা ঠিক করতে গেল রুম এর মধ্যে ।

বিছানা ঠিক করতে যেয়ে তানিয়া একটা চিরকুট পেলো....। 

সুরজের লিখা....... 

বাবু তোমাকে ছাড়া থাকা কষ্টের। তোমার সাথে অন্য কাউকে দেখা বা কথা বলা আরো অনেক অনেক বেশী কষ্টের যা আমি সহ্য করে নিতে পারছি না। আমি চেষ্টা করেছি তোমাকে ফিরাতে কিন্তু আমি ব্যর্থ। হয়তো এখন আমার কোন মূল্য নেই তোমার কাছে......

যেখানে আমি তোমার স্বামী হয়ে কোন মূল্য পেলাম না তাই চলে যাচ্ছি অনেক দূরে ............

 আজ থেকে তুমি স্বাধীন, মুক্ত করে দিলাম তোমায়। বাবু ' আমার কথা মনে পড়লে আকাশের তারাঁর দিকে তাকাবে...... 

সবচেয়ে উজ্জ্বল তাঁরা টাই আমি, দূর থেকে তোমায় দেখবো, কথা বলবো আমার বাবুটার সাথে। লক্ষী হয়ে থেকো, ভালো থেকো" 

সাথে সাথে সুরজের মোবাইলে কল দিলো তানিয়া কিন্তু মোবাইল বন্ধ পেলো। কি করবে বুঝতে পারছে না তানিয়া। সুরজ অন্য ছেলেদের তুলনায় খুব বেশী ইমোশনাল। 

তানিয়া ফ্যামিলির অন্য সবার কাছে কল দিলো। সবাই সুরজকে কল দিতে লাগল। সবাই সুরজের নাম্বার বন্ধ পাচ্ছে....!! 

 তানিয়া অঝোর ধারায় কাঁদছে এদিকে সবাই সুজয়কে খুঁজতে খুঁজতে পেরেশান হয়ে যাচ্ছে কোথাও সুজয়কে পাওয়া যাচ্ছে না। 

প্রায় ৪-৫ ঘন্টা পর খবর এলো সুজয়ের লাশ হাসপাতালে......!!! রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে সুজয়। তানিয়া পাথর হয়ে গেল, তানিয়ার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, তানিয়া জানে এটা এক্সিডেন্ট না.....। 

সূজয় আত্যহত্যা করছে। আর এ জন্য দায়ী তানিয়া........। তানিয়া কিছুতেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছে না, তানিয়া নিজের ভুল বুঝতে পারছে, হাউ মাউ করে কাঁদছে..., সামান্য কিছু ভুলের জন্য সে আজ তার ভালোবাসার মানুষকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেললো..।

 তানিয়া হাজার চাইলেও আর সুজয়কে ফিরিয়ে আনতে পারবে না...।

 তানিয়া এখন রাত হলেই ছাদে গিয়ে বসে থাকে সুজয়ের সাথে কথা বলার জন্য। 

ছাদে গিয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল তাঁরাটার দিকে তাকিয়ে থাকে আর কথা বলে..... " বাবু কেমন আছো তুমি আমাকে ছেড়ে"...?? 

বাবু আমি এখন কারো সাথে কথা বলি না। বিশ্বাস করো, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও, শুধু তোমার সাথে বলি এখন আমি শুধু তোমার বাবু।

 আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি বাবু তাই না....??

 বাবু আমি বুঝতে পারি নাই আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি খুব পচা,খুব খারাপ তাই না বাবু.....?? কি বললে.?? 

আমার বাবু টা পচা না খারাপ না.....??? হুম আমি খারাপ আমার ভুলের জন্য তোমাকে আজ হারিয়ে আমি এখন একা। 

এভাবেই প্রতিদিন তানিয়া কথা বলে সূজয়ের সাথে নিজ থেকে নিজে। তানিয়াকে ডাক্তারর দেখানো হয়, আস্তে আস্তে তানিয়া কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

 তানিয়া বিকাল হলেই ছাদে গিয়ে বসে থাকে সুজয়ের জন্য...কিন্তু সুজয় তো আর ফিরে আসে না.....!! সে যে চলে গেছে না ফেরার দেশে !!!! 

সুজয় তো কোনদিন ফিরবে না তানিয়ার কাছে।
Love Story: Can love only be known in short doses?
 #ধন্যবাদ#

আপনার সন্তানের বুদ্ধির বিকাশ কিভাবে ঘটাবেন ??

  https://amzn.to/3KHLreQ একজন অভিভাবক হিসেবে সন্তানের উৎকর্ষতার দিকে আমাদের সবসময় খেয়াল রাখতে হয়। আমরা সকলেই আমাদের সন্তানের মেধার বিকাশের ...